সকাল ৮:২৯,   শুক্রবার,   ২৭শে এপ্রিল, ২০১৮ ইং,   ১৪ই বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ,   ১০ই শাবান, ১৪৩৯ হিজরী

অগ্রযাত্রা যেন ব্যাহত না হয় : প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক::
বর্তমান নির্বাচন কমিশন এরই মধ্যে দুটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনসহ স্থানীয় পর্যায়ের বেশকিছু নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করে জনগণের আস্থা অর্জন করেছে। বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দশম সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের চার বছর পূর্তিতে শুক্রবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে সরকার প্রধান এ কথা বলেন।

তার এই ভাষণ জাতীয় সম্প্রচার মাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে সরাসরি প্রচার শুরু হয় শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন-২০১৪ সালে আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আজকের এই দিনে আমি তৃতীয়বারের মত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছিলাম। আজ বছরপূর্তিতে আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে হাজির হয়েছি। আমার ওপর রাখা আস্থা ও বিশ্বাস রক্ষার প্রাণপণ চেষ্টা করেছি। সাফল্য ও ব্যর্থতার বিচার করবে জনগণ। ২৮ বছর দেশের মানুষ উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। জনকল্যাণে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়। ২০০১ সালে চক্রান্ত করে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আসতে দেয়া হয়নি। কিন্তু আওয়ামী লীগ টানা ৯ বছর ক্ষমতায় থাকার কারণে আজ দেশের উন্নতি হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ভবিষ্যতে কেউ আর বেকার ও দরিদ্র থাকবে না। বেকার ও দরিদ্র নিরসনে নানামুখী পরিকল্পনা নিয়েছি। সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে নানামুখী কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল নির্মাণ করা হবে। পুরো দেশ রেল যোগাযোগের আওতায় আনা হবে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হবে শিগগির। মাথাপিছু আয় ১,৬১০ ডলার হয়েছে। দারিদ্র্য নেমেছে ২২ শতাংশে। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের আগে নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হবে। কোন মহল যাতে আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টা করতে না পারে সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দিন বদলের সনদ ঘোষণা করে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলে মানুষের জীবনমান সহজ ও উন্নত করার উদ্যোগ নিয়েছি। এই কারণে জনগণ ২০০ ধরনের সেবা পাচ্ছেন। একটানা ৯ বছর জনসেবার সুযোগ পেয়েছি বলেই বাংলাদেশ উন্নত হচ্ছে। যার সুফল পাচ্ছে জনগণ।

তিনি আরো বলেন, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি, জিডিপির আকার বড় হওয়া, দারিদ্রের হার কমানো, মুদ্রাস্ফীতি কমানো, বৈদেশিক বিনিয়োগ, প্রবাসী আয়, রপ্তানি আয় বাড়ার সঙ্গে বেড়েছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও। সর্বোপরি বাজেটের আকার বৃদ্ধি প্রমাণ করে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে স্বীকৃতি মিলেছে।

নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন, খাদ্য নিরাপত্তা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা গ্রাম পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা বলার পাশাপাশি নতুন প্রতিশ্রুতিও দেন প্রধানমন্ত্রী।

২০০১ সালের নির্বাচনের পর রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন; অর্থ লুটপাট, হাওয়া ভবনের দৌরাত্ম্যের পাশাপাশি জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের গ্রেনেড হামলার মতো ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন। উল্লেখ করেন নির্বাচন পরবর্তী বিএনপি-জামায়াত জোটের নির্মম নৃশংসতার কথাও।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও রায় কার্যকর করা ছাড়াও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারী ও বিডিআর হত্যার বিচারের হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জঙ্গিবাদ দমনে সফলতার কথাও। এসময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রশংসাও করেন তিনি।

জনগণই সকল ক্ষমতার মালিক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আহ্বান জানান যেন অগ্রগতি থেমে না যায়। সেখান থেকে আর পিছনে ফিরে তাকানোর সুযোগ নেই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি, ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলে দেশি-বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমি শুধু এটুকু বলতে চাই- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই দেশ স্বাধীন করেছেন একটি আদর্শ ও চেতনা ধারণ করে। বাংলাদেশের মানুষকে ক্ষুধা, দারিদ্র্য, অশিক্ষার হাত থেকে মুক্ত করে একটি সুন্দর জীবন নিশ্চিত করার প্রত্যয় নিয়ে স্বাধীনতার সংগ্রাম করেছিলেন।

সংবাদটি আপনার ভালো লাগলে লাইক, শেয়ার ‍দিন-