সকাল ৭:৩৯,   বুধবার,   ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং,   ৯ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ,   ৪ঠা জমাদিউস-সানি, ১৪৩৯ হিজরী

দান-সাদকার কথা বলে বেড়ানোর উপমা ও ক্ষতিকারক দিক

অনলাইন ডেস্ক::
দানের পর দাতা যদি গ্রহীতাকে কোনো প্রকার কষ্ট দেয় বা তা প্রতি দান করার অনুগ্রহ প্রকাশ করে তবে দানের মর্যাদা অক্ষুন্ন থাকে না। কষ্ট প্রদান এবং অনুগ্রহ প্রকাশের ফলে দানের সাওয়াব বিনষ্ট হয়ে যায়।

আল্লাহ তাআলা পূর্ববর্তী আয়াতে সে সব লোকদের পরকালীন চিরস্থায়ী জিন্দেগীর সাফল্যের সুসংবাদ দিয়েছেন যারা শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে দান করে এবং গ্রহীতার প্রতি অনুগ্রহ প্রকাশ করে না এবং তাদেরকে কোনো প্রকার কষ্ট দেয় না। তারা কেয়ামতের দিন ভীত-সন্ত্রস্ত হবে না।

এমনকি সে সব দানকারীকে কেয়ামতের দিন কোনো দুঃখ স্পর্শ করবে না। পক্ষান্তরে যারা দান গ্রহীতাকে কষ্ট দেবে এবং অনুগ্রহ প্রকাশ করবে তাদের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা সুস্পষ্ট ভাষায় সতর্কতা প্রদান করে বলেন-

আয়াতের অনুবাদ

আয়াত পরিচি.তি ও নাজিলের কারণসুরা বাকারার ২৬৪নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা দানের কথা মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখার ব্যাপারে উম্মতে মুসলিমাকে সতর্ক করেছেন। যারা দানের কথা বলে বেড়ায় তাদেরকে লোক দেখানো ইবাদতকারী ও অবিশ্বাসীদের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।

হাদিসে পাকে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা করেছেন ৩ শ্রেণির মানুষের দিকে আল্লাহ তাআলা রহমতের দৃষ্টিতে তাকাবেন না। এবং তাদের পবিত্রও করবেন না আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।

এ হাদিসটি ইমাম মুসলিম, ইমাম ইবনে মাজাহ এবং ইমাম নাসাঈ তাদের গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তাঁরা সবাই ৩ শ্রেণির বর্ণনায় লোকদের বৈশিষ্ট্য ভিন্ন ভিন্ন তুলে ধরলেও সবাই একটি বৈশিষ্ট্যের ব্যাপারে বৈপরিত্য দেখাননি। আর তাহলো এ আয়াতের ঘোষণার কথা। সে বৈশিষ্ট্যটি হলো- যে দাতা গ্রহিতার প্রতি অনুগ্রহ প্রকাশ করে।

হাদিসের আলোকেও বুঝা যায়, ‘দাতা কোনো গ্রহীতাকে দান করার পর নিজের অনুগ্রহের কথা বলে বেড়ানো বা কষ্ট দেয়া মারাত্মক অপরাধ।’ যে কারণে আল্লাহ তাআলা কেয়ামতের দিন এ সব দানকারীদের প্রতি রহমতের দৃষ্টিতে তাকাবেন না; তাদেরকে পবিত্র করবেন না এবং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।

তাছাড়া যারা দানের কথা অন্যের কাছে বলে বেড়ায় এবং গ্রহীতাকে কষ্ট দেয়; তারা লোক দেখানো ইবাদতকারী। আর লোক দেখানো ইবাদতও আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না।

এ বৈশিষ্ট্যের লোকদের ব্যাপারে আল্লাহ বলেন, তারা অবিশ্বাসীদের মতো। আর অবিশ্বাসী কখনো আল্লাহর অনুকম্পার আশা করতে পারে না। তাদের জন্য রয়েছে কঠোর আজাব।

এ আয়াতে লোক দেখানোর একটি দৃষ্টান্তও আল্লাহ তাআলা তুলে ধরেছেন। আর তাহলো- একটি পাথরের ওপর সামান্য মাটি দেখা যাচ্ছিল। কোনো ব্যক্তি সেই পাথরের ওপর বীজ বপন করেছে এরপর মুষলধারে বৃষ্টিপাত হয়েছে।

মুষলধারে বৃষ্টিপাতের ফলে পাথরটি ধুয়ে মুছে পরিস্কার হয়ে গেছে। কিন্তু পাথরের ওপর বীজ বপনকারীর বীজের যেমন কোনো অস্তিত্ব বা কোনো ভভিষ্যৎ থাকে না ঠিক তেমনি লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে যে দান বা সাদকা করে তারও সে দান বা সাদকারও কোনো সাওয়াব পাওয়া যাবে না।

পাথরের ওপর সামান্য মাটিতে বীজ বপনের পর সেখান থেকে যেমন ফসলে আশা করা যায় না ঠিক তেমনি লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে দান করলে সে দানের কোনো প্রকার শুভ পরিণতিও আশা করা যায় না।

সর্বোপরি কথা হলো, এ আয়াতের ব্যাপারে হাদিসে পাকে অসংখ্য বর্ণনা রয়েছে। পৃথিবীর সূচনা থেকে আজ পর্যন্ত অসংখ্য বনি আদম এ সব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে গেছে। কিন্তু তাদের পরিণতি ছিল শূন্য। প্রিয়নবি তাঁর উম্মতের সতর্কতার জন্য তা হাদিসে পাকে বর্ণনা করে গেছেন।

পড়ুন- সুরা বাকারার ২৬৩ নং আয়াত

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য দান করার তাওফিক দান করুন। দান করে অনুগ্রহের কথা বলে বেড়ানো বা কষ্ট দেয়ার মাধ্যমে দানের সাওয়াব থেকে বঞ্চিত না হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সংবাদটি আপনার ভালো লাগলে লাইক, শেয়ার ‍দিন-