রাত ১০:২৭,   শনিবার,   ২০শে জানুয়ারি, ২০১৮ ইং,   ৭ই মাঘ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ,   ২রা জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৩৯ হিজরী

রংপুরে সাত মণ ঘি জুটেছে, তাই রাধাও নেচেছে : (সুজন)

অনলাইন ডেস্ক::
রংপুরে সাত মণ ঘি জুটেছে, তাই রাধাও নেচেছে-এমন মন্তব্য করে রংপুরে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের যে দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলো তার ধারাবাহিকতা আগামী সব নির্বাচনে রক্ষার দাবি জানিয়েছেন সুজন নেতৃবৃন্দ।

১১ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর উদ্যোগে ‘রংপুরের সফল নির্বাচনের ধারাবহিকতা রক্ষায় করণীয়’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এ দাবি জানান তারা।

গোলটেবিল বৈঠকে সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘রংপুরে সাত মণ ঘি জুটেছে, তাই রাধাও নেচেছে। অন্য সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও একই অবস্থার পুনরাবৃত্তি করা গেলেই সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করা যাবে। অর্থাৎ গ্রহণযোগ্য নির্বাচন শুধু নির্বাচন কমিশনের ওপর নির্ভর করে না, যদিও এর জন্য কমিশনের ভূমিকাই সর্বাধিক। বস্তুত, নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা, নিরপেক্ষতা ও সাহসিকতা গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য অপরিহার্য হলেও, তা যথেষ্ট নয়।’

তিনি বলেন, ‘আরও সুস্পষ্টভাবে বলতে গেলে, সবচেয়ে নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশনও সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারবে না, যদি না সরকার ও রাজনৈতিক দল সদিচ্ছা প্রদর্শন এবং দায়িত্বশীল আচরণ করে। তাই রংপুরের নির্বাচন মানুষের মধ্যে আশাবাদ সৃষ্টি করলেও, তা থেকে আগামী নির্বাচনগুলো কেমন হবে তার কোনো সুস্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে না।’

সুজন সম্পাদক বলেন, ‘সকল পর্যবেক্ষকের মতেই সম্প্রতি অনুষ্ঠিত রংপুরের সিটি করপোরেশন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ তথা গ্রহণযোগ্য হয়েছে। এতে ভোটার তালিকা নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠেনি, অর্থাৎ মনে হয় যেন রংপুরে সকল এলিজেবল বা ভোটার হবার যোগ্য ব্যক্তি ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পেরেছেন। যারা প্রার্থী হতে চেয়েছেন তারা প্রার্থী হতে পেরেছেন। ভোটারদের সামনে বিকল্প প্রার্থী ছিল, অর্থাৎ নির্বাচনটি ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক। এই নির্বাচনে ভোটারগণ কোনোরূপ ভয়-ভীতির ঊর্ধ্বে উঠে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছেন। নির্বাচনে কোনো সহিংসতা ঘটেনি। ভোটগুলো সঠিকভাবে গণনা হয়েছে। পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়াটিই ছিল মোটামুটি স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য। রংপুরের নির্বাচনকে তাই আন্তর্জাতিক আইনের ভাষায়, ”জেনুইন ইলেকশান” বা সঠিক নির্বাচন বলা চলে।’

বদিউল আলম বলেন, ‘রংপুর সিটি নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার অন্যতম কারণ হলো সেখানে নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা প্রদর্শন এবং জন-আস্থা অর্জনের লক্ষ্যে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে। কমিশন ৩৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের অধীনে ৩৩টি এবং বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের অধীনে ১১টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে। এছাড়াও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাড়ে পাঁচ হাজার সদস্যকে মোতায়েন করেছে। সর্বোপরি রংপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং প্রশাসন তথা সরকার দায়িত্বশীল আচরণ করেছে। রাজনৈতিক দলগুলোও সদাচরণ করেছে। একইসঙ্গে এ নির্বাচনে গণমাধ্যম ওয়াচডগের ভূমিকা পালন এবং নাগরিক সমাজও ব্যাপক সক্রিয়তা প্রদর্শন করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ রংপুরের সফল নির্বাচনের অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতা অন্যান্য সিটি করপোরেশন নির্বাচনে রক্ষা করা গেলেও, সংসদ নির্বাচনে তার পুনরাবৃত্তি করা যাবে তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। কারণ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন হয় না। পক্ষান্তরে জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার হাতবদল হয়। তাই জাতীয় নির্বাচনের সমীকরণ সম্পূর্ণ ভিন্ন। আর আমাদের দেশের ‘বিজয়ীদের সবকিছু করায়ত্তে’র সংস্কৃতিতে যেকোনো মূল্যে নির্বাচনে জেতার এক অশুভ প্রতিযোগিতা বিরাজমান। তাই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য বা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আমাদের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল মরণপণ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হলে আমরা আশ্চর্যান্বিত হব না। তাই ঢাকাসহ আগামী ছয়টি সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হলেও আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে তা কোনোভাবেই নিশ্চিত করে বলা যাবে না।’

গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। আলোচনায় অংশ নেন সুজন নির্বাহী সদস্য জনাব আলী ইমাম মজমুদার, ড. আসিফ নজরুল, সাবেক অতিরিক্ত সচিব জনাব শফিউল আলম, রাজনীতিবিদ হুমায়ুন কবীর হিরু, সুজন ঢাকা জেলা কমিটির সম্পাদক জনাব আবুল হাসনাত, জনাব ক্যামেলিয়া চৌধুরী, মহানগর কমিটির সহ-সভাপতি জনাব নাজিম উদ্দিন প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সুজন কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী জনাব দিলীপ কুমার সরকার।

সংবাদটি আপনার ভালো লাগলে লাইক, শেয়ার ‍দিন-