সকাল ৭:৩৬,   বুধবার,   ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং,   ৯ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ,   ৪ঠা জমাদিউস-সানি, ১৪৩৯ হিজরী

হাকালুকিতে চলছে শিকার, বিষটোপে অতিথি পাখি নিধন

অনলাইন ডেস্ক::
হাকালুকি হাওরে বিষটোপ দিয়ে চলছে অবাধে পাখি শিকার। ফলে হাওরটি অতিথি পাখির জন্য ক্রমেই অনিরাপদ হয়ে উঠছে। হুমকির মুখে পড়েছে জীববৈচিত্র।

নিজের ফেসবুক আইডি থেকে দেয়া এক পোস্টে মৃত পাখির ছবিসহ এমন তথ্য তুলে ধরেছেন সিলেটের কুলাউড়া উপজেলার উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ। তিনি ফেসবুকে লিখেন-

‘হাকালুকি হাওরে নির্বিচারে অতিথি পাখি নিধন; উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে পাখির সংখ্যা। আশু পদক্ষেপ না নিলে হুমকিতে পড়বে জীববৈচিত্র।

২৩৮টি বিল, ১০টি নদী নিয়ে গঠিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলার ৫টি উপজেলায় অবস্থিত দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম হাওর হাকালুকি। শীতকাল শুরুর সাথে শীতপ্রধান দেশ থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে আসতে শুরু করে ৫০-৬০ প্রজাতির অতিথি পাখি। সুদূর সাইবেরিয়া ও হিমালয়ের পাদদেশ লাদাখ থেকে অতিথি পাখি আসে হাকালুকি হাওরে। ঐসব দেশে যখন শীতের তীব্রতা দেখা দেয়, তখন এদেশের আতিথ্য গ্রহণ করতে লাখো অতিথি পাখি ছুটে আসে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে।

ভিনদেশী বিচিত্র রঙের এসব অতিথি পাখি হাকালুকি হাওরে আসা শত শত পর্যটকদের বিনোদনের অন্যতম খোরাক। অতিথি পাখিরা হাকালুকি হাওরের চকিয়া, কাংলি, গোবরকুড়ি, গৌড়কুড়ি, জল্লা, হাওরখাল, পিংলা, কালাপানি, মালাম, বাইয়াগজুয়া, নাগুয়ালরীবাই, ফুটবিল ও কৈয়াকোনা বিলে আশ্রয় নেয়।

এক সময় এই হাওর অতিথি পাখির নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্র ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হাওরটি অতিথি পাখির জন্য অনিরাপদ হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেল, হাকালুকিতে অনেক দুষ্প্রাপ্য মাছ ফিরে আসার পাশাপাশি উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু হাওরে মহিষ চরিয়ে জলজ বন (swamp forest) ধ্বংস এবং বিষটোপ দিয়ে শিকারের কারণে অতিথি পাখি আর আগের মত আসছে না। আগে ৫০-৬০ প্রজাতির পাখি আসলেও এবার বড়জোর ৩০-৩৫ প্রজাতির পাখি এসেছে। এভাবে চলতে থাকলে হাওর একসময় পাখিশুন্য হয়ে পড়বে। অবিলম্বে হাওরের জলজ বনে মহিষ চরানো বন্ধ করা ও বিষটোপ দিয়ে পাখি শিকার বন্ধ করা না গেলে চরম হুমকিতে পড়বে হাওরের জীববৈচিত্র।’

সংবাদটি আপনার ভালো লাগলে লাইক, শেয়ার ‍দিন-