সকাল ৭:২০,   বুধবার,   ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং,   ৯ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ,   ৪ঠা জমাদিউস-সানি, ১৪৩৯ হিজরী

হুমকির মুখে ব্রীজ ও আবাদি জমি অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন

অনলাইন ডেস্ক::
লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলায় মন্দিরের না ভাঙ্গিয়ে অবৈধভাবে এক শ্রেনীর মুনাফা লোভী প্রভাবশালী বালু খেকোরা বোমা মেশিন দিয়ে ব্রীজের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত বালু উত্তোলন করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে করে হুমকির মুখে পড়েছে ব্রীজ ও আশে পাশের আবাদী জমি।এ নিয়ে এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন করেও কোন সুফল পাচ্ছেন না। শুধু তাই নয় বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপের কারনে প্রশাসন ও এলাকাবাসী বালু খেকোদের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছেন অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। ফলে সহজেই বালু উত্তোলন করে অবাধে চালাচ্ছে বালু বিক্রির রমরমা ব্যবসা।

জানাগেছে, জেলার আদিতমারী উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের কান্তেরশ্বর গ্রামে অবস্থিত ওই ব্রীজটি তারই একশ গজ দূর থেকে মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন ওই প্রভাবশালী বারু খেকোরা। এতে হুমকির মুখে রয়েছে ব্রীজ আশেপাশের ফসলি জমিও। যে কোন সময় ব্রীজটি ভেঙ্গে যেতে পারে আর আবাদি জমি ধসে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে ওই গ্রামের কৃষকরা। তাই ওই সব ভুক্তভোগী কৃষকরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে বালু উত্তোলন বন্ধের জন্য একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এতে তো কোন সুফল আসেনি উল্টো তাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে বভিন্ন ধরনের হুমকির প্রদান করেন বলে অভিযোগ তুলেন তারা।

নাম প্রকাশে অনিশ্চুক একাধিক এলাকাবাসী জানান, মন্দিরের নাম ভাঙ্গিয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলন করেছেন তারা। আর ওই বালু নিয়ে তারা বিক্রি করছে ব্যবসার জন্য।

তবে বালু উত্তোলনের বিষয়ে অনুমতি রয়েছে কিনা জানতে চাইলে ওই প্রভাবশালী মহলটি সাংবাদিকদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। এ সময় তারা বলেন, আপনাদের যা লেখার লিখে দেন, আমাদের বালু উত্তোলন চলবেই। আভিযোগকারী ও কৃষক শ্রী মোহিনী মোহন জানান, ফসলি জমি ও গাছের বাগান রক্ষায় বালু উত্তোলন বন্ধের জন্য আবেদন করেও কোন সুফল মিলছে না। এখন কি করণীয় বলেই থেমে জান আর কিছুই বলতে পারছিলেন না? তার দুচোখ জলে ছল ছল করছিলো।

এ বিষয়ে পার্শ্ববর্তী ভাদাই ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আব্দুল কাদের মিন্টু জানান, এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধের নির্দেশ দিলেও তারা কোন কান দিচ্ছেন না। এছাড়া তিনি বালু উত্তোলন বন্ধের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসাদুজ্জামান বালু উত্তোলন বন্ধের অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে ইউনিয়ন ভুমি সহকারী তহশিলদারকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তিনি আসলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সংবাদটি আপনার ভালো লাগলে লাইক, শেয়ার ‍দিন-